পরিচিতি
About Us
কলেজের ইতিহাস
ভোলাহাট মোহবুল্লাহ্ মহাবিদ্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলায় অবস্থিত অন্যতম একটি মহাবিদ্যালয়। এটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী এর অধীনে পরিচালিত।
ভোলাহাট মোহবুল্লাহ্ মহাবিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠাতা মোহবুল্লাহ্ মাহালত ১৯৮৬ সালে ১.৭৮ একর জমি দান করার মাধ্যমে ভোলাহাট উপজেলায় প্রথম মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেন। তাঁর নামেই মহাবিদ্যালয়টি ভোলাহাট মোহবুল্লাহ্ মহাবিদ্যালয় নামে নামকরণ করা হয়।
এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলা সদর হতে ১.৪ কি.মি পূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পশ্চিমে অবস্থিত। বর্তমানে মহাবিদ্যালয়টিতে তিনটি ভবন ও একটি বিশাল খেলার মাঠ রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা মাধ্যমিক, রাজশাহী বোর্ডের অধীনে এইচ.এস.সি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী পাস কোর্স চালু রয়েছে।
অধ্যক্ষের বাণী
মোহাঃ রহমত আলী
অধ্যক্ষ
ভোলাহাট মোহবুল্লাহ মহাবিদ্যালয় জ্ঞান, গবেষণা ও নৈতিক মূল্যবোধের উপর ভর করে একটি আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু দক্ষ পেশাজীবীই নয়, বরং সমাজে দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার ধারা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং আমরাও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন ও গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো—একটি প্রাণবন্ত একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যজ্ঞান নয়, বরং মানবিকতা, নেতৃত্বগুণ ও সমাজসেবার মনোভাব নিয়ে গড়ে উঠবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে ভোলাহাট মোহবুল্লাহ মহাবিদ্যালয়কে একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠে রূপান্তরিত করি—যেখান থেকে গড়ে উঠবে আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা
স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত
প্রতিষ্ঠাতা
স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত এর জীবনী
জন্ম ও বংশ পরিচিতি
স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত আনুমানিক ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মোলাবদী মাহালত ও মাতার নাম মরহুমা জ্ঞানো বিবি। বংশগতভাবে স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত কৃষক পরিবারের সন্তান। তাঁর ভাই মরহুম ঘুরু মাহালত ও বোন মরহুমা ডুমনী বিবি।
ঠিকানা ও নিবাস
স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ভোলাহাট উপজেলার ১ নম্বর ভোলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশাকুড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।
ব্যক্তিগত স্বভাব, আচরণ ও পেশা
স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত জন্মসূত্রে প্রতিষ্ঠিত কৃষক পরিবারের সন্তান। নিজেদের জমি চাষাবাদ করাই তাঁদের পেশা। তিনি শিশুকাল থেকেই অনুগত ও কোমল স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি পরিণত বয়সে পার্শ্ববর্তী পিরানচক (বজরাটেক) গ্রাম নিবাসী মরহুম আমীর জান এর কন্যা স্বর্গীয় খাতুন বিবিকে বিয়ে করেন। তিনি পাঁচটি কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর ঔরসে কোন ছেলে সন্তান ছিল না। অত্যন্ত পরিশ্রমী মোহবুল্লাহ্ মাহালত তাঁর পিতার প্রথম সন্তান হিসেবে পরিবারের প্রতি সর্বদা দায়িত্ববান ও যত্নশীল ছিলেন। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করতেন। অতঃপর সকালের নাস্তা গামছায় বেঁধে মাঠের উদ্দেশ্যে চলে যেতেন। সারাদিন ক্ষেতের কাজ সেরে সন্ধ্যে বেলা বাড়ী ফিরতেন। মাঠেই দিনের বাকী নামাজ আদায় করতেন। তাঁর কোন ছেলে সন্তান ছিল না বলে তিনি দুঃখ করতেন না বরং মেয়েদের খুবই ভালবাসতেন ও আদর করতেন। গ্রামে কারও সাথে কোন দিন তাঁর মনকষাকষি বা ঝগড়া-বিবাদ হয়েছিল বলে তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়নি। অতীব নিরীহ ও মহাপ্রাণ ব্যক্তিটি সমাজের প্রতিও দায়িত্ববান ছিলেন। বজরাটেক কানারহাট গন্ডুজওয়ালা মসজিদ কমিটির সর্দার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর।
স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালতের দান এর তালিকা
পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত স্বল্প সম্পত্তির মালিক স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত প্রকৃতই দানবীর লোক ছিলেন। তাঁর স্থাবর সম্পত্তির সিংহভাগই তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান করে গেছেন।
- ভোলাহাট মোহবুল্লাহ্ মহাবিদ্যালয়: ০৭ (সাত) বিঘা।
- বজরাটেক গন্ডুজওয়ালা ওয়াকফিয়া মসজিদ: ০১ (এক) বিঘা ০৫ (পাঁচ) কাঠা।
- বজরাটেক ইসলামিয়া জামে মসজিদ: ০৩ (তিন) বিঘা ০৫ (পাঁচ) কাঠা।
- বজরাটেক জংহ বেওয়া জামে মসজিদ: ১৮ (আঠার) কাঠা।
- দক্ষিণ পিরানচক ওয়াকফিয়া মসজিদ: ১৮ (আঠার) কাঠা।
- খালেআলমপুর মাদ্রাসা: ০১ (এক) বিঘা।
শারীরিক গঠন
হালকা পাতলা গড়নের মানুষ ছিলেন স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত। পরিশ্রমী বলেই হয়তো আজীবন নীরোগ শরীরের অধিকারী ছিলেন। তিনি জরা-ব্যাধিগ্রস্ত ছিলেন না বলে তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁর গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা ছিল।
মৃত্যু বরণ
১৯৮৭ সালের ০৮ই ডিসেম্বর রোজ মঙ্গলবার রাত আটটায় নিজ বাড়ীতে মহাপ্রাণ স্বর্গীয় মোহবুল্লাহ্ মাহালত বার্ধক্যজনিত রোগ ভোগ করে ইহলোক ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ (নব্বই) বছর। তাঁর উত্তরসূরী ও মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোলাহাট মোহবুল্লাহ্ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ১৯৮৭ সালের ০৯ই ডিসেম্বর তাঁকে কবরস্থ করা হয়। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁকে বেহেশ্ত নসীব করুন ও তাঁর আত্মার ওপর রহমত বর্ষিত হোক।
তথ্য সংগ্রহ ও প্রণয়ন: নূরে আলম মুক্তা, প্রদর্শক, জীববিদ্যা বিভাগ, ভোলাহাট মোহবুল্লাহ্ মহাবিদ্যালয়। তারিখ: ২৫/১১/১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
একটি আলোকিত ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে জাতি ও বিশ্বের কল্যাণে অবদান রাখবে।
আমাদের মিশন
মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, গবেষণায় উৎসাহ প্রদান, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।